ধূমপান শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর তা সবারই জানা, এমনকি ধূমপায়ীদেরও। বলা হয়ে থাকে, ধূমপায়ীরা ধূমপানের সাথে বিষপান করে থাকেন। কিন্তু তারপরও ধূমপায়ীরা সহজে ধূমপান পরিত্যাগ করতে পারেন না। সিগারেটের নিকোটিন মস্তিষ্কে গিয়ে ধূমপায়ীর ক্লান্তি, বিষাদ ও দুশ্চিন্তা দূর করে সুখকর অনুভূতির সৃষ্টি করে। এর ফলে সহজেই এতে আসক্ত হয়ে পড়তে পারে যে কেউ এমনকি কিশোর বয়সীরাও।

ধূমপান পরিহার করুন, Source: imaginelaserworks.com

ধূমপানের নেশায় আসক্ত হওয়া সহজ হলেও এটি পরিহার করা খুব কঠিন। কারণ হঠাৎ করে নিকোটিন গ্রহণ একদম ছেড়ে দিলে ধূমপায়ীর মস্তিষ্কে চাপ পড়ে এমনকি শরীরেও সাময়িক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর ফলে ধূমপায়ী না চাইলেও অনেক সময় ধূমপান করতে বাধ্য হন। কিছু টিপস মেনে চললে ধীরে ধীরে ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করা যেতে পারে সহজেই।

নিজেকে কিছু প্রশ্ন করুন

ধূমপান পরিহার করার পরিকল্পনা করার জন্য প্রথমেই নিজের সম্পর্কে কিছু তথ্য জানা প্রয়োজন। এর জন্য নিজেকে কিছু প্রশ্ন করতে পারেন। যেমন

ধূমপান হঠাৎ ছেড়ে দিলে ধূমপায়ীর মস্তিষ্কে চাপ পড়তে পারে, Source: hiveminer.com

  • আপনি কি অনেক বেশি ধূমপান করেন?
  • দিনে কতগুলো সিগারেট খেতে পারেন?
  • কোনো বিশেষ সময়ে কি ধূমপান করার ইচ্ছা বেড়ে যায়? যেমন খাবার পর বা খেলাধুলার পর বা কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় গেলে?
  • কোনো কারণে মন খারাপ বা হতাশ হলে কি আপনার ধুমপান করতে ইচ্ছা করে?

ধূমপান পরিহার করার পরিকল্পনা করুন

প্রথমে কোন দিন থেকে সিগারেট সম্পূর্ণরূপে পরিহার করতে চান তা নির্দিষ্ট করুন। এতে মনকে যথা সম্ভব প্রস্তুত করার জন্য সময় পাওয়া যাবে। হঠাৎ করে সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করা খুব কঠিন। তাই প্রথম কিছুদিন ধীরে ধীরে এর ব্যবহার কমিয়ে নিতে হবে।

সিগারেট বা ধূমপানের সামগ্রী সরিয়ে রাখুন, Source: drantoniohowell.com

ধূমপায়ীদের একটি বৈশিষ্ট্য হলো সিগারেট বা নিকোটিন জাতীয় কিছু সামনে পেলে তাদের ধূমপান করার অদম্য ইচ্ছা জেগে ওঠে। ধূমপান পরিহার করতে হলে তাই সবার আগে নিশ্চিত হতে হবে যেন সিগারেটের প্যাকেট বা ধূমপান জাতীয় কোনো দ্রব্য ধূমপায়ীর সামনে না থাকে। এর জন্য পরিবার ও বন্ধুদেরকেও সহায়ক ভূমিকা পালন করতে হবে। তাই ধূমপান পরিহার করার ইচ্ছা সম্পর্কে বন্ধুদেরকে ও জানান।

ধূমপানের ইচ্ছা কমানোর জন্য কিছু ওষুধ রয়েছে যেগুলো লজেন্স বা চুইংগাম হিসেবেও ফার্মেসিতে কিনতে পাওয়া যায়। ডাক্তার বা ফার্মেসির দোকানে খোঁজ নিয়ে এই দ্রব্যগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে।

ধূমপানের তীব্র আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টির কারণগুলো চিহ্নিত করুন

ধূমপান ত্যাগ করার পরিকল্পনা করলেও একজন ধূমপায়ীর জন্য তা বাস্তবে করা অনেক কঠিন। কারণ দীর্ঘদিন নিকোটিন গ্রহণ করার পর হঠাৎ করে তা ছেড়ে দিলে ধূমপায়ীর মস্তিষ্কে অনেক চাপ পড়ে যা কমানোর জন্য ধূমপানের আকাঙ্ক্ষা আরো তীব্র হয়ে ওঠে।

নিকোটিন গাম, Source: snoremagazine.com

ফলে পরিকল্পনা করা সত্ত্বেও ধূমপান ছাড়তে পারেন না অনেক ধূমপায়ীই। তাই ধূমপান কমিয়ে দেবার সাথে সাথে এটাও জানা জরুরি যে, ঠিক কী কারণে বা কখন ধূমপান করার ইচ্ছাটা অদম্য হয়ে ওঠে। এর জন্য একটি নোটবুকে প্রতিদিনের কিছু পর্যবেক্ষণ লিখে রাখতে পারেন যা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। যেমন –

১। কোন কোন সময়ে ধূমপান করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা জেগে ওঠে?
২। ইচ্ছাটা ঠিক কতটা তীব্র? এটা প্রকাশ করার জন্য নিজের অনুভূতি যাচাই করে ১-১০ এর মধ্যে নম্বর লিখতে পারেন।
৩। আপনি সে সময়ে ঠিক কি করছিলেন? ওই কাজটির প্রভাবে কি ধূমপানের ইচ্ছা জেগেছে?
৪। কার সাথে থাকলে আপনার ধূমপান করতে ইচ্ছা করে?
৫। ধূমপান করার আগে আপনার অনুভূতি কি ছিল?
৬। ধূমপান করার পর আপনার কি অনুভূতি হয়েছে?

যেভাবে ধূমপানের তীব্র ইচ্ছা দমন করবেন?

ধূমপানের ইচ্ছা কেন হয় সে সম্পর্কে নোট করবার পর এবার এই ইচ্ছা দমন করার পালা। মূলত ধূমপানের ইচ্ছা হঠাৎ তীব্র হয়ে ওঠে বটে কিন্তু তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। কষ্ট করে ৫-১০ মিনিট ধৈর্য ধরলে ধূমপানের ইচ্ছা পুরোপুরি চলে যায়। তবে এর জন্য আপনাকে কিছু টিপস অবলম্বন করতে হবে।

অন্য কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন

যখন ধূমপান করতে প্রচন্ড ইচ্ছা হবে তখন নিজেকে অন্য কাজে ব্যস্ত করার চেষ্টা করুন। এর জন্য আগেই পরিকল্পনা করে রাখতে পারেন যে, ধূমপান করতে ইচ্ছা হলে আপনি কী করবেন। অন্য মজার কোনো খাবার খাওয়া, ধর্মীয় বা বিনোদনমূলক ভিডিও দেখা বা কোনো বন্ধুর সাথে কথা বলে মনোযোগ অন্য কিছুর প্রতি ঘুরিয়ে দিতে পারেন।

যে কারণে ধূমপান ত্যাগ করতে চান তা স্মরণ করুন

সুস্থ ফুসফুস ও একজন ধূমপায়ীর ফুসফুস, Source: pinterest.com

ধূমপান করলে ফুসফুসের ক্যান্সার, হৃৎপিণ্ডের জটিলতা সহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এসব কারণ চিন্তা করলে ধূমপান করার ইচ্ছাও কমে যেতে পারে।

সিগারেটের বদলে মুখে অন্য কিছু দিন

চুইংগাম, কফি চকলেট ইত্যাদি মুখে দিয়ে অন্য কিছু গ্রহণের ইচ্ছা থেকে মনকে বিরত রাখতে পারেন।

পানি পান করুন

ধীরে ধীরে চুমুক দিয়ে বেশ অনেক্ষণ ধরে পানি পান করলে তা যেমন শরীরে পানির পরিমাণ ঠিক রাখবে তেমনি তা নিকোটিনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কম করতেও সাহায্য করবে। ধূমপান ধূমপায়ী এবং তার আশপাশের ব্যক্তি সকলের জন্যই ক্ষতিকর। ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করা খুব কঠিন মনে হলেও কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।

Featured Image: huffingtonpost.co.uk