যারা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করেন অথবা যারা ওজন কমাতে চান তারা তাদের দৈনন্দিন খাবার তালিকা তালিকা থেকে শুরুতেই ফ্যাট জাতীয় খাবারকে সরিয়ে দেন। আর এই ফ্যাট জাতীয় খাবার হিসেবে আইসক্রিম, চকোলেট ইত্যাদি বাদ পড়ে শুরুতেই। কিন্তু আইসক্রিম পছন্দ করেন না এমন মানুষ নেই বললেই চলে।

সত্যিই কেমন হতো যদি আইসক্রিমও হতো একটি পুষ্টিদায়ক ও স্বাস্থ্যকর খাবার? যদি ডায়েট মেনে চলার পরও পড়ন্ত বিকেলে বা কোনো আড্ডায় নিশ্চিন্তে খাওয়া যেতো একটি গোটা আইসক্রিম? আইসক্রিম প্রেমীদের এই আইসক্রিম প্রেমকে উস্কে দিতে বিশ্বের বিখ্যাত কিছু আইসক্রিমের ব্র্যান্ড বিশেষ কিছু স্বল্প মাত্রার ক্যালরিযুক্ত আইসক্রিম বাজারে এনেছে যেগুলো নিশ্চিন্তে খেতে পারেন যেকোনো ডায়েট অনুসারীরা।

ইয়াসো (YASSO)

আইসক্রিমের ক্রিম স্নেহজাতীয় পদার্থ যার প্রায় ৯৯ শতাংশই ফ্যাট। কিন্তু অনেকেই আছেন যারা এর ক্রিমটাই বেশি পছন্দ করেন, কিন্তু ওজন বাড়ার ভয়ে খেতে পারেন না। ইয়াসো ব্র্যান্ডের লো ফ্যাট আইসক্রিম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা আপনার ক্যালরি না বাড়িয়েই আপনাকে দিতে পারে ক্রিমের মতো স্বাদ।

ইয়াসো ব্র্যান্ডের কিছু আইসক্রিম, Source:
Money Saving Mom

এটি লো ফ্যাট দুধ ও স্বাস্থ্যকর গ্রিক ইয়োগার্ট দিয়ে তৈরী। সাধারণ আইসক্রিমের মতো এতে অনেক বেশি ক্রিম না থাকলেও এটি বেশ সুস্বাদু। এই আইসক্রিম কেবল হাফ কাপ খেলেই আপনি পেতে পারেন ৫-৬ গ্রাম প্রোটিন যাতে রয়েছে প্রায় ১০০ ক্যালরি। এর বিভিন্ন ফ্লেভারও বিদ্যমান যার মধ্য থেকে আপনি বেছে নিতে পারেন আপনার পছন্দের ফ্লেভারটিও।

স্নো মানকি (Snow Monkey)

স্নো মানকি ব্র্যান্ডের আইসক্রিমটি প্রকৃতপক্ষে ক্রিমযুক্ত আইসক্রিম নয়। শস্যদানা, ফল ইত্যাদি পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাদ্য দিয়ে এটি তৈরী। এছাড়াও এতে আছে প্রোটিন পাউডার। বিভিন্ন শস্যদানা ও ফলকে ব্লেন্ডারের মাধ্যমে পিউরে বানিয়ে এর সাথে প্রোটিন পাউডার মিশিয়ে এটি তৈরি করা হয়। তাই এতে কোনো কেমিক্যাল ফ্লেভার বা অতিরিক্ত চিনি মেশানোর প্রয়োজন হয় না। ফল থেকেই ফ্লেভার ও সুমিষ্ট স্বাদ পাওয়া যায়।

স্নো মানকি ব্র্যান্ডের কিছু আইসক্রিম, Source: On Second Scoop

তাই এটি খেলে ক্যালরি বেড়ে যাওয়ার কোনো দুশ্চিন্তাই থাকে না। তবে এর স্বাদ সত্যিকার আইসক্রিমের মতো না হলেও এর বরফ শীতল অনূভুতি আপনার মেজাজকেও ঠান্ডা রাখতে সক্ষম।

হ্যালো টপ (Halo Top)

হ্যালো টপ ব্র্যান্ডের এক কাপ লো ফ্যাট আইসক্রিমে আছে ১০ গ্রাম প্রোটিন এবং মাত্র ২৪০ ক্যালরি। এতে স্বল্প পরিমাণে দুধ ও ক্রিম ব্যবহার করা হয়। আর ফ্যাট তথা ক্রিমের বিকল্প হিসেবে এতে দেয়া হয় প্রিবায়োটিক ফাইবার যা শরীরে প্রোটিন সরবরাহ করে এবং এতে আছে উপকারী ব্যাকটেরিয়া যা হজম শক্তি বৃদ্ধি করে।

হ্যালো টপ ব্র্যান্ডের কিছু আইসক্রিম, Source: Everyday Health

এছাড়াও চিনির বিকল্প হিসেবে এতে স্টেভিয়া (ক্যালরি মুক্ত বিশেষ ঘনচিনি) যোগ করা হয় বলে শরীরে অতিরিক্ত ফ্যাট জমে না। তাই এটি যেমন ক্রিমের অতুলনীয় ঠান্ডা স্বাদ দেয় তেমনি যত্ন নেয় শরীর ও মন দুটোরই।

এনলাইটেন্ড (Enlightened)

এই ব্র্যান্ডের আইসক্রিমগুলো স্বাদে যেমন অতুলনীয় তেমনি গুণে ও মানে সেরা। এর বিভিন্ন ধরনের অসাধারণ সব ফ্লেভার যেমন ফ্রেঞ্চ টোস্ট, ব্রু কোল্ড কফি, গ্লেজড ডোনাট ইত্যাদি জয় করেছে আইসক্রিমপ্রেমীদের মন। তাছাড়াও খুব কম ক্যালরিযুক্ত হওয়ায় ডায়েট অনুসারীদেরও নজর কেড়েছে এই ব্র্যান্ডটি।

এনলাইটেনড ব্র্যান্ডের কিছু আইসক্রিম, Source:
Brownie Bites Blog

এই ব্র্যান্ডের এক কাপ আইসক্রিমে আছে প্রায় ১২ গ্রাম প্রোটিন। এছাড়াও এক কাপ আইসক্রিম থেকে পাওয়া যায় মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ ক্যালরি। এতে সামান্য পরিমাণে চিনি এবং এর সাথে এরিথ্রিটোল (ক্যালরিমুক্ত বিশেষ চিনি) যোগ করা হয় যা এর সুমিষ্ট স্বাদ আনে। আর ক্রিমের জন্য দুধের বদলে এতে ব্যবহার করা হয় কর্ন ফাইবার যা প্রোটিন সরবরাহ করে।

মাইমো (My/Mo)

মাইমো ব্র্যান্ডের কিছু আইসক্রিম, Source: My/Mo Mochi Ice Cream

মাইমো ব্র্যান্ডের আইসক্রিমটি বেশিরভাগ মোচিপ্রেমীদের পছন্দের তালিকায় দেখা যায়। মোচি হলো জাপানিজ একটি খাবার যেটি জাপানিজ রাইস কেক নামেও পরিচিত। মাইমো আইসক্রিমটা মূলত একটি বল আইসক্রিম যার উপরিভাগে মোচির আস্তরণ থাকে। অন্যান্য লো ফ্যাট আইসক্রিমের মতো এতে লো ফ্যাট উপাদানসমূহ ব্যবহার করা হয়। এর একটি বল আইসক্রিমের রয়েছে কেবল ১১০ ক্যালরি।

বর্তমানে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন টার্গেটের জন্য ডায়েটেশিয়ানরা যেমন উপযুক্ত ডায়েট পদ্ধতি বের করছেন ঠিক তেমনি প্রতিটি ডায়েট পদ্ধতির জন্যও আইসক্রিম ব্র্যান্ডের মালিকরা বাজারে নিয়ে আসছেন নিত্য নতুন ফ্লেভার ও গুণগত মানের আইসক্রিম যেন কঠোর ডায়েট প্ল্যানের ভিড়ে আইসক্রিমপ্রেমটা হারিয়ে না যায়।

তবে একটি কথা ডায়েট অনুসারীদেরকে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। সেটি হলো স্বাস্থ্যকর আইসক্রিম একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পর্যন্তই স্বাস্থ্যকর। ক্যালরি কম বলে অনেক বেশি পরিমাণে খেয়ে ফেললে স্বাস্থ্যকর আইসক্রিমও আপনার ডায়েট পদ্ধতির জন্য হয়ে উঠতে পারে অস্বাস্থ্যকর। লো ফ্যাট হলেও আপনার ডায়েটিশিয়ান হয়তো এটিকেও রাখতে পারেন আপনার পরিত্যাজ্য খাদ্যের তালিকায়।

তবে ডায়টেশিয়ানদের মতে, নিজের বিএমআর থেকে প্রতিদিন আপনার যতটুকু ক্যালরি শরীরে প্রয়োজন সেটি আগে মেপে নিতে হবে। এরপর ক্যালরি হিসাব করে প্রয়োজনে খাবার চার্ট থেকে অন্য কোনো খাবার বাদ দিয়ে মাঝে মাঝে আপনি লো ফ্যাট আইসক্রিম গ্রহণ করতে পারেন। তবে অবশ্যই তা অর্ধেক কাপের বেশি নয়।

Feature Image: timeout.com