২৩,০০০ নিঃশ্বাস। এটি হচ্ছে মাত্র একদিনে আপনি যে পরিমাণ শ্বাস ফুসফুস দ্বারা টেনে নেন তার পরিমাণ।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সি অনুসারে যে বাতাস আপনি ঘরে বা অফিসের ভেতর গ্রহণ করছেন তা বাহিরের বাতাসের চেয়ে ২-৫ গুণ (কখনো তা ১০০ গুণ পর্যন্ত) বেশি দূষিত।

এটা আমরা সবাই ই বুঝি যে একটা পরিবারের সামগ্রিক বাজেটে রুমের জন্য সাধারণত উচ্চমানের কোনো এয়ার পিওরিফায়ার রাখা হয় না। তাই এখানে এমন কিছু জিনিস নিয়ে আমরা কথা বলবো যা সাধ্যের মধ্যে এবং তার কলাকৌশল সহজ। বিগত গবেষণাগুলোতে অভ্যন্তরীণ বাতাসের গুণ উন্নয়নের জন্যও কাজ করা হয়েছে।

তবে তার আগে আমাদের জানতে হবে, কী কী জিনিস থাকে বাতাসে?

যে দূষকগুলো বাতাসে অহরহ পাওয়া যায় তা হলো :

অগ্নিশিখা পার্টিকেলস, ভোলাটাইল অর্গানিক কম্পাউন্ড (VOC’S) যেমন ফরমাল্ডিহাইড এবং বেনজিন। তাছাড়াও থাকে মোল্ড স্পোর, ধূলা, রেণু, পোষা প্রাণীর ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস।

এখানে ছয়টি উপায় দেওয়া আছে যা দ্বারা বাতাসকে তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর রাখা সম্ভব।

১) বেশিরভাগ সময়েই ঘরের জানালাগুলো খুলে রাখুন

বাতাস চলাচলের উপযুক্ত এমন বাড়িকে বলা হয় ‘Leaky house’; Image source: nz.raywhite

ছিদ্রযুক্ত বাড়িগুলো বা যে বাড়িতে জানালা/দরজার মাধ্যমে বাইরে থেকে ভেতরে বা ভেতর থেকে বাইরে বাতাস আসা-যাওয়ার সুযোগ রয়েছে সেগুলো শক্তির দক্ষতার জন্য খারাপ হলেও বাতাসের গুণ বজায় রাখার জন্য ভালো।

ঘরের মধ্যে যদি খুব সামান্য পরিমাণ বাতাস প্রবেশ করতে পারে তাহলে দূষকগুলো স্তুপাকার হয়ে জমতে থাকে যা একপর্যায়ে এসে আরামের ব্যাঘাত ঘটায় এবং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠে। ঘর তৈরির জন্য তাই খেয়াল রাখতে হবে যেন পর্যাপ্ত পরিমাণে ভেন্টিলেটর থাকে।

ইপিএ-এর মতে ঘরের ভেতরের বাতাস নির্মল রাখতে সবচেয়ে বড় উপায় হচ্ছে প্রাকৃতিক ভেন্টিলেশন। ঘরের এসি অফ করে যথাসম্ভব জানালাগুলো খুলে দেওয়া। ঘরের ফ্যানও কিন্তু বাইরের এবং ঘরের বাতাসের বিনিময়ে সাহায্য করে থাকে।

আরেকটা বিষয় লক্ষ করার, আপনি যদি পরাগরেণুতে বেশি সংবেদনশীল হয়ে থাকেন তাহলে একটি ভালো উপায় হচ্ছে রেণুগুলোর সংখ্যা কমে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা, আপনি যদি অতি আদ্র কোনো জায়গায় বসবাস করেন তাহলে উচিত হবে জানালাগুলো আগে বন্ধ করে একটি ডিহিউমিডিফায়ার ব্যবহার করা।

২) ক্ষতিকর পণ্যের বিনিময়ে অন্য পণ্য আনুন

ক্ষতিকর ক্লিনিং প্রোডাক্ট পরিহার করুন; Image source: silenttechno.live

এয়ার ফ্রেশনার, ক্লিনিং প্রোডাক্টগুলো জিনিসপত্র পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করলেও ঘরের অভ্যন্তরীণ দূষণে এগুলো সহায়তা করে। তাই উচিত হবে কেনার সময় যে ক্লিনিং পন্যগুলো বিষাক্ত নয়, ঘরের বাতাস দূষিত করে না সেগুলোর দিকে খেয়াল করা।

এসেনশাল অয়েল স্প্রে ব্যবহার করুন আর কৃত্তিম সুগন্ধিযুক্ত এয়ার ফ্রেশনারের পরিবর্তে করুন সিমার পট। প্যারাফিন মোমবাতি ব্যবহার না করে করুন হাতে তৈরি বিসওয়াক্স মোমবাতি। ঘরের আসবাবপত্র কেনার সময় খেয়াল রাখবেন যেন এগুলো থেকে কোনো প্রকার কেমিক্যাল শিখা বের হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে।

পুনর্গঠনে আগ্রহী হোন। আপনার বাড়িটি যদি ১৯৭৮ এর আগের তৈরি হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই বাড়িটির পুনর্গঠন করুন। বাড়ি সাজাতে খেয়াল রাখবেন যেন ইউরিয়া ফরমাল্ডিহাইড এবং VOC পেইন্টের ব্যবহার হয় কম।

৩) বাতাস বিশুদ্ধিকারক গাছপালা সংগ্রহ করুন

ছবির গাছগুলো বাতাসকে করে তুলে বিশুদ্ধ; Image source: Mahagro

নাসা কর্তৃক পরীক্ষিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে কার্বনডাইঅক্সাইড শোষণ এবং অক্সিজেন নির্গমনের মাধ্যমে গাছপালা কিছু উদ্বায়ী জৈব দূষক (VOC’s) যেগুলো কিনা ক্যান্সার সহ শরীরের নানারকম জটিলতা তৈরি করে সেগুলোকে দূর করে গৃহমধ্যস্থ বাতাসের গুণগত মান উন্নয়ন করে।

৪) হোমিবায়োটিক

ঘরের ভেতর ব্যবহার করতে পারেন হোমিবায়োটিক স্প্রে; Image source: startupworld

এটি সোজাসুজি আপনার ঘরের জন্য একটি প্রো-বায়োটিক। অর্থাৎ আমাদের পাকস্থলীতে যেমন উপকারী এবং রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াগুলো একে অন্যের সাথে প্রতিযোগিতা করে পরিবেশ বা অবস্থার সমতা বিধান করে তেমন।

হোমিবায়োটিকের একটি স্প্রে ই কোটি কোটি উপকারী ব্যাক্টেরিয়া ধারণ করে যেগুলো ঘরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলোকে প্রতিরোধ করে এবং অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য রক্ষা করে।

৫) মোসো ব্যাগ

ঘরের ভেতরের ছোট জায়গায় মোসো ব্যাগ; Image source: the container store

যেহেতু এই পোস্টটি কম খরচে বাতাস বিশুদ্ধিকরণ সম্পর্কে তাই আমি এয়ার ফিলট্রেশন ইউনিটের মতো বেশি খরচের দিকে যাচ্ছি না।

মোসো ব্যাগ হচ্ছে কম খরচে বাতাস বিশুদ্ধিকারক যা বাতাসের দুর্গন্ধ এবং বিষাক্ত দ্রব্যাদি শোষণের মাধ্যমে বাতাস বিশুদ্ধ করে। ছোট জায়গা যেমন গাড়ি, পায়খানা, গোসলখানা বা পোষা প্রাণীর ঘরে রাখা হয়। ব্যাগগুলো সাধারণত এক্টিভেটেড চারকোল দিয়ে পরিপূর্ণ থাকে যারা বিশুদ্ধিকরণের প্রধান কাজটি করে থাকে। অস্টিন এয়ার কোম্পানি তাদের টপ রেটেড এয়ার ফিল্টার হিসেবে মোসো ব্যাগকে এগিয়ে রাখছে। মোসো হচ্ছে –

অসাধারণ শক্তিশালী চারকোল ব্যবহার করে যাতে লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্রাকার ছিদ্র এবং গর্ত থাকে যাদেরকে একত্রে বড় একটি স্পঞ্জের মতো দেখায়। বাতাস যখন এই ছিদ্রের মধ্যে দিয়ে বয়ে যায় তখন তার গন্ধ, এলার্জি এবং ব্যাক্টেরিয়ার কণাগুলো চারকোলের উপরিভাগ আটকে যায়। এভাবেই মোসো ব্যাগ বাতাস বিশুদ্ধ করে থাকে।

ব্যাম্বু চারকোল বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষিত যে এটি পেইন্ট, কার্পেট, এয়ার ফ্রেশনার, কেমিক্যাল ক্লিনার, রাবার এবং প্লাস্টিক থেকে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ যেমন ফরমাল্ডিহাইড, এমোনিয়া, বেনজিন এবং ক্লোরোফর্ম গ্যাস শোষণ করে নেয়।

৬) পাপোশ ব্যবহার করুন

দরজার সামনে পাপোশ ব্যবহার করুন; Image source: wayfair

ইপিএ-এর রিপোর্ট অনুসারে, আমরা বাইরে থেকে ঘরে আসার সময় যে ধুলাবালি পায়ে করে নিয়ে আসি তাও অভ্যন্তরীণ বাতাস দূষিত করতে ভূমিকা রাখে। তাই দরজাগুলোতে পাপোশ ব্যবহার করা উচিত যা অনেকাংশেই ধুলাবালি আটকে রাখে।

অন্যান্য যে কাজগুলো আপনি করতে পারেন

হেপা (HEPA) ভ্যাকুয়াম ব্যবহার করুন। কার্পেট সাধারণত স্পঞ্জের মতো আচরণ করে যা মোল্ড, ধুলাবালি, রাসায়নিক আটকে রাখে। আর তারা নির্গত করে VOC. তাই হেপা ভ্যাকুয়াম ব্যবহার করলে এটি এই সব বিষাক্ত জিনিস কার্পেট থেকে টেনে নিয়ে ঘরকে করে দূষণমুক্ত।

ব্যবহার করতে পারেন রাডন। রাডন হচ্ছে বর্ণহীন, গন্ধহীন রেডিওএক্টিভ গ্যাস যেটি মাটিতে ইউরেনিয়ামের ক্ষয়ের মাধ্যমে উৎপন্ন হয়।
রাডন ব্যবহার করেও ঘরের দূষণ কমানো সম্ভব।

Feature Image: Heatandcool